তানভীর আজাদ
দৌলতপুর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া জেলার চারটি সংসদীয় আসনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ছয়জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা নির্বাচন কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্ত জানান।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন বিধি লঙ্ঘন, মনোনয়নপত্রে গুরুতর ত্রুটি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাসময়ে দাখিল না করায় এসব মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির স্থানীয় নেতা, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং কয়েকটি ছোট রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিও রয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি প্রার্থী বাদ পড়েছেন কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী–খোকসা) সংসদীয় আসনে। এই আসনে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তারা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কুমারখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম আনসার প্রামাণিক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী খাইরুল ইসলাম। রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানান, খাইরুল ইসলাম সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও বিধি অনুযায়ী অব্যাহতি না নেওয়ায় তার মনোনয়ন অবৈধ হয়। অপর দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগত অসংগতি ও নথিগত ঘাটতি পাওয়া গেছে।
এছাড়া কুষ্টিয়া-১ আসনে নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা এবং কুষ্টিয়া-২ আসনে আল আহসানুল হকের মনোনয়নপত্রও যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় আরও জানায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় তাদের অনেকের মনোনয়ন বৈধতা পায়নি। তবে কুষ্টিয়ার চারটি আসনের কোনোটি থেকেই বড় রাজনৈতিক দলের দলীয় মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে নির্বাচন অফিস।
মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে বাতিল হওয়া কয়েকজন প্রার্থী, বিশেষ করে নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা ও নুরুল ইসলাম আনসার প্রামাণিক জানিয়েছেন, তারা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।



















