রমজান মাসে অনেক সময় রোজাদার ব্যক্তিরা সেহরির আগে বা ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষের সম্মুখীন হন। এ নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় কাজ করে যে, এতে রোজা হবে কি না বা করণীয় কী। কুরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামিক স্কলাররা এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন ।
স্বপ্নদোষে কি রোজা ভেঙে যায়?
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, স্বপ্নদোষের কারণে রোজা ভেঙে যায় না । যেহেতু এটি একটি অনিচ্ছাকৃত এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরের প্রক্রিয়া, তাই এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না । কুরআন মাজিদে বলা হয়েছে, “আল্লাহ কারো ওপর এমন কষ্টদায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না, যা তার সাধ্যাতীত।” (সূরা বাকারা, আয়াত: ২৮৬)
সেহরির আগে হলে করণীয়:
১. সেহরি খাওয়া: সময় কম থাকলে ফরজ গোসল না করেই সেহরি খাওয়া জায়েজ । তবে খাওয়ার আগে হাত-মুখ ধুয়ে নেওয়া বা ওজু করে নেওয়া উত্তম ।
২. গোসল ও পবিত্রতা: সেহরির পর দ্রুত গোসল করে পবিত্র হয়ে ফজরের নামাজ আদায় করা আবশ্যক । হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) অনেক সময় অপবিত্র (জানাবাত) অবস্থায় সুবহে সাদেকের সময় উপনীত হতেন এবং পরে গোসল করে রোজা পূর্ণ করতেন (সহীহ বুখারী, হাদিস: ১৯২৬)।
৩. পোশাক পরিষ্কার করা: বীর্য শরীরের কোনো অংশ বা কাপড়ে লাগলে কেবল সেই অংশটুকু ধুয়ে নিলেও পবিত্র হওয়া যায় ।
হাদিসের দলিল:
নবী করীম (সা.) স্পষ্ট করেছেন যে, তিনটি বিষয় রোজা ভঙ্গের কারণ নয়: বমি করা, শিঙ্গা লাগানো এবং স্বপ্নদোষ (জামে তিরমিযী, হাদিস: ৭১৯) ।
সতর্কতা:
ইচ্ছাকৃত বীর্যপাত (যেমন হস্তমৈথুন বা সহবাস) করলে রোজা ভেঙে যাবে এবং সেক্ষেত্রে কাজা ও কাফ্ফারা ওয়াজিব হতে পারে । তবে অনিচ্ছাকৃত স্বপ্নদোষের ক্ষেত্রে কেবল গোসল করে নিলেই রোজা সহিহ হয়ে যাবে [।

















