মঙ্গলবার , ২০ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলা
  7. চাকুরী
  8. জাতীয়
  9. প্রবাস
  10. বানিজ্য
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. শিক্ষা
  14. সারাদেশ
  15. সাহিত্য

একাকিত্বের ভারে বিপর্যস্ত নারীস্বাস্থ্য

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২০, ২০২৬ ৫:১১ অপরাহ্ণ

মিয়া সুলেমান, ইশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
স্বামী–বিয়োগ, বিবাহবিচ্ছেদ কিংবা কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন আলাদা বসবাস—জীবনের নানা বাস্তবতায় অনেক নারীর জীবনেই সহবাসের ধারাবাহিকতা হঠাৎ থেমে যেতে পারে। বিষয়টি এখনো আমাদের সমাজে খুব কম আলোচিত। অথচ চিকিৎসা ও মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, এই পরিবর্তনের কিছু শারীরিক ও মানসিক প্রভাব থাকলেও সচেতনতা ও যত্নে সেগুলো সামাল দেওয়া সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সহবাস বন্ধ হলে অনেক নারীর ক্ষেত্রে মানসিক অস্থিরতা, মন খারাপ বা অকারণে রাগের প্রবণতা বাড়তে পারে। কারণ, সহবাসের সময় শরীরে যে ‘ফিল গুড’ হরমোন—এন্ডোরফিন ও অক্সিটোসিন—নিঃসৃত হয়, তা কমে যায়। এতে সামাজিক যোগাযোগেও কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এর ইতিবাচক দিকও রয়েছে। নিয়মিত সহবাস না থাকলে কিছু ক্ষেত্রে মূত্রনালির সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যেতে পারে বলে চিকিৎসকরা জানান। পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ রাখতে বিকল্পভাবে ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তির চর্চা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সহবাস রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হলেও তা বন্ধ হয়ে গেলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক স্বাস্থ্যচর্চার মাধ্যমে ইমিউন সিস্টেম সচল রাখা সম্ভব।
হরমোনের ভারসাম্য কিছুটা পরিবর্তিত হলে হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক শক্তিতেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম, মেডিটেশন এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা এই ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে দিতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দীর্ঘদিন সহবাস না থাকলে অনেক নারীর ক্ষেত্রে যৌন আকাঙ্ক্ষা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। এটিকে স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন হিসেবেই দেখা উচিত। একইভাবে মানসিক ক্লান্তি বাড়লে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগে প্রভাব পড়তে পারে, যার সমাধান লুকিয়ে আছে সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাসে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহবাস বন্ধ থাকা মানেই অসুস্থতা নয়। বরং পারিবারিক ও সামাজিক সমর্থন, মানসিক যত্ন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখলে নারীরা স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। এ বিষয়ে পুরুষদের সচেতনতা ও সহমর্মিতা নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি হতে পারে।

সর্বশেষ - ধর্ম

আপনার জন্য নির্বাচিত