তৌহিদ হাসান জেলা প্রতিনিধি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৩ মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জনাব ফায়েজুল ইসলাম লাঞ্জু। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ফায়েজুল ইসলাম লাঞ্জু মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারিতলা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের সক্রিয় রাজনীতির মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি নিজ এলাকায় ফিরে এসে মাদারগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে তিনি দুই মেয়াদে মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে দুইবার অত্যন্ত সফলতার সাথে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি জামালপুর জেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
সম্প্রতি সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ফায়েজুল ইসলাম লাঞ্জু জানান, মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জের সাধারণ মানুষের সেবা এবং উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি নির্বাচনে লড়তে চান। তিনি বলেন, “আমি সারাজীবন জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতি করেছি। দল যদি আমাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন না দেয়, তবে তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের চাপে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেব।”
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
এলাকার স্থানীয় রাজনীতিতে লাঞ্জুর এই ঘোষণা নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। তার সমর্থকরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে মাঠপর্যায়ে রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় এবং দুই উপজেলায় তার ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ থাকায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ আসনে তার এই ঘোষণা নির্বাচনী উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই ঘোষণার সম্ভাব্য প্রভাব
দলীয় চ্যালেঞ্জ: বিএনপি যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়, তবে লাঞ্জু সাহেবের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া দলের ভোট ব্যাংক বিভাজন করতে পারে।
জনপ্রিয়তার যাচাই: যেহেতু তিনি দুইবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তাই তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের একটি বড় অংশ তার পক্ষে কাজ করার সম্ভাবনা থাকে।
আঞ্চলিক সমীকরণ: জামালপুর-৩ আসনে মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ—উভয় উপজেলাতেই তার শক্ত অবস্থান নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।


















