বুধবার , ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলা
  7. চাকুরী
  8. জাতীয়
  9. প্রবাস
  10. বানিজ্য
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. শিক্ষা
  14. সারাদেশ
  15. সাহিত্য

কুষ্টিয়া -৪ আসন: দ্বিধাগ্রস্ত বিএনপি, আত্নবিশ্বাসী জামায়াত, মাঠে কে এগিয়ে ?

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিসেম্বর ১০, ২০২৫ ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ

আলী হোসেন, কুষ্টিয়াঃ জাতীয় সংসদের ৭৮ নং আসন কুষ্টিয়া – ৪ ( কুমারখালী – খোকসা ) আসন। এ-ই আসনটা কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ-ই সংসদীয় আসনটা ২ পৌরসভা ও ২০ টা ইউনিয়ন গঠিত। এ-ই আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ১৫ হাজারেরও বেশি। তারমধ্য কুমারখালী উপজেলাতে ভোটার আছে ২ লক্ষ ৮৬ হাজার আর খোকসা উপজেলাতে আছে ১ লক্ষ ১৬ হাজার। ভোটার আনুপাতিক হার পুরুষ – মহিলা প্রায় সমান।

এ-ই আসনটা খুলনা বিভাগের মধ্যে ব্যাতিক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ আসন। কারন, এ-ই আসন যে দল পায় সে-ই দল খুলনা বিভাগে ভালো ফল পায়। এ-ই আসনটা কুষ্টিয়া জেলার শেষ সীমানায়। এ-ই আসনের সাথে রাজবাড়ী, পাবনা ও মাগুরা জেলার ভৌগোলিক সম্পর্ক রয়েছে। তা-ই এখানকার ভোটের উত্তাপ আশপাশের জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। এ-ই আসনের কুমারখালী উপজেলার মানুষ তাঁতশিল্পের উপর নির্ভরশীল এবং দারিদ্রমুক্ত আর খোকসা উপজেলা মানুষ কৃষি উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী।

কুষ্টিয়া -৪ আসনটির অতীত নির্বাচনের ফলাফল বলে, কোন দল ও ব্যাক্তি এ-ই আসনে এককভাবে রাজত্ব করতে পারেনি। ৯০ সালে স্বৈরাচার পতনের পর ৯১ সালের নির্বাচনে আঃলীগ এ-ই আসন পায়। প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয় জামায়াতের সাথে। বিএনপির অবস্থান তৃতীয় হয়। ৯৬ সালের নির্বাচনে অল্পকিছু ভোটের ব্যবধানে বিএনপি এ-ই আসনে জয়লাভ করে। জামায়াতে সামান্য ভোটের ব্যবধানে তৃতীয় হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি- জামায়াত জোট আঃলীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে। আবার ২০০৮ সালে বিএনপি – জামায়াত জোটের ধানের শীষের প্রার্থী আঃলীগের কাছে পরাজিত হয়। তারপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি – জামায়াত জোট অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। ২০১৮ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষের প্রার্থী ১৮ ঘন্টাও মাঠে দাঁড়াতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামী এ-ই নির্বাচন বর্জন করে। আর ২০২৪ সালের নির্বাচনে আঃলীগের ডামি প্রার্থী জয়লাভ করে।

২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে এ-ই আসনে প্রার্থী হয়েছেন, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, জামায়াতে ইসলামীর কুমারখালী উপজেলা নায়েবি আমীর সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আফজাল হোসাইন, ইসলামি আন্দোলনের আনোয়ার খান , বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফজলে নূর ডিকো, গণঅধিকার পরিষদের শাকিল আহমদ তিয়াস।

বিএনপির হাইকমান্ড ৩ ই নভেম্বর সারাদেশে ২৩৭ টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন তারমধ্য এ-ই আসনের প্রার্থীও ছিল। ঐ দিন রাতেই বিএনপির এ-ই আসনের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র নরুল ইসলাম আনছার মশাল হাতে মাঠে নামেন। তারপর থেকে মশাল মিছিল, সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন থেকে কাফনের কাপড় পড়ে মিছিল হয়ে আসছে। এ-ই আসনে বিএনপি ৪ ভাগে বিভক্ত। বর্তমান ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী , মনোনয়ন প্রত্যাশি উপজেলা বিএনপির সভাপতি নরুল ইসলাম আনছার , কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মনোনয়ন প্রত্যাশি শেখ সাদী ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা হাফেজ মঈনউদ্দীনের অনুসারীরা একে অপরের থেকে আলাদা । সবমিলিয়ে এ-ই আসনে দ্বিধাগ্রস্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা।

জামায়াতে ইসলামী এ-ই আসনে বরাবরই শক্ত অবস্থানে ছিল। ১৯৯১ সালে অল্প ব্যবধানে আঃলীগের কাছে পরাজিত হয়, ১৯৯৬ সালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত বিএনপিকে সাপোর্ট করে। ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২ টা পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ও ১ টা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পায় জামায়াত। কুষ্টিয়াতে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থাকার কারনে ছাত্রশিবির খুব শক্তিশালী ও জনপ্রিয় সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ছাত্রশিবির কুমারখালী উপজেলাতে ৪ টা সাংগঠনিক থানায় কাজ করে, খোকসা উপজেলাতে ২ টা সাংগঠনিক থানায় কাজ করে। কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের জনশক্তির প্রধান সাপ্লাই চেইন এ-ই আসনের ছাত্র সংগঠন। বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে সারাদেশের মতোই এ-ই আসনের দুইটা উপজেলাতে ছাত্রশিবির ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। যার কারনে তাদের একাধিক নেতাকর্মী নি হ ত ও বহু আ হ ত হয়েছে। মহিলা জামায়াতের সংগঠন আরো মজবুত। এ-ই আসনে স্হানীয় নির্বাচনে বরাবরই একাধিক মহিলা জামায়াতের প্রার্থী বিজয়
লাভ করে। তাছাড়া স্হানীয় নির্বাচনে বিভিন্ন ইউনিয়নে জামায়াতের প্রতিনিধিরা ব্যাপক ভোটে জয়লাভ করে আসছে। এখানে শ্রমিক সংগঠনও মজবুত।

এ-ই আসনের দুইটা উপজেলাতে চরমোনাই পীর সাহেবের দল ইসলামি আন্দোলনের দুইটা উপজেলা কমিটি আছে। কিন্তু কার্যক্রম নেই বললেই চলে। বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে তাদের কমিটি ছিল শুধুমাত্র কাগজকলমে। ৫ ই আগষ্টের পর কিছু কর্মসূচি পালন করেছে যা চোখে পড়ার মতো না। তাছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কুমারখালী উপজেলাতে কাগজকলমে একটা কমিটি আছে। এছাড়া ৮ দলীয় জোটের বাদবাকি ৫ দলের কোন কমিটি নেই।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী বেশ অস্বস্তিতে আছে। তার বিরুদ্ধে দলের ভিতর থেকে আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের মাত্রা এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে তিনি ঠিকমতো গণসংযোগই করতে পারছেন না। ভোটের আগ পর্যন্ত এমন অস্বস্তিকর পরিবেশ বজায় থাকলে ভোটের ফলাফলে নিশ্চিত বিপর্যয় ঘটবে বলে মনে করেন এ-ই আসনের রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী আফজাল হোসাইন দলের নেতাকর্মীদেন কাছে প্রিয় ব্যাক্তি প্রিয় মুখ। তারজন্য ৫ ই আগষ্টের পর থেকেই আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে নেতাকর্মীরা। প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রামে ব্যাপকভাবে গণসংযোগ করে আসছে। যার কারনে আফজাল হোসাইন এ-ই আসনে জনপ্রিয় মুখ থেকে জননেতায় পরিণত হয়েছেন। অনেকেই বলে, আফজাল হোসাইন এখনই অঘোষিত এমপি , জনতার এমপি । ধারণা করা হচ্ছে, ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে ভূমিধস জায় পাবে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার এ-ই প্রার্থী।
চরমোনাই পীরের প্রার্থী আনোয়ার খান এ-ই আসনে নতুন ও অপরিচিত মুখ। ৫ ই আগষ্টের আগে এ-ই নামে কোন নেতা আছে তা এ-ই অঞ্চলের লোক জানতেন না ; এখনো তেমন একটা জানে না। ৫ ই আগষ্টের অনেক পর মোটরবাইক শোডাউনের মধ্যে দিয়ে তিনি সোস্যাল প্লাটফর্মে আসেন। এ-ই আসনে চরমোনাই পীরের কার্যক্রম তেমন একটা নেই যার কারনে প্রার্থীর প্রচারনা একেবারেই সীমাবদ্ধ। অন্যদলের প্রার্থীদের অবস্থা চরমোনাই পীর সাহেবের প্রার্থীর মতোই। নতুন ও অপরিচিত মুখ। প্রচারে সীমাবদ্ধতা। অনেকেই মনে করেন তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি – জামায়াতের প্রচারনার ভিড়ে এ-ই সব ছোটখাটো দলের প্রার্থীরা মাঠ ছেড়ে দিতে পারেন।

এ-ই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কুষ্টিয়া জর্জ কোর্টের এপিপি রবিউল ইসলাম জানান, ৫ ই আগষ্টের পর দেশ সম্পন্ন পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ এখন আর আঃলীগ বিএনপির ভোটের হিসেবে নেই। মানুষ বুঝতে শিখেছে অনেককিছু জানে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিককালে স্হানীয় ভাবে অনলাইনে যতোগুলো জরিপ হয়েছে সবগুলোতে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আফজাল হোসাইন ব্যাপক ব্যবধানে এগিয়ে আছে। মানুষ সৎ যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীর পক্ষে বলেই দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে কুমারখালী প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, এ-ই আসনে বিএনপি দ্বিধাবিভক্ত তাই জামায়াতে ইসলামী বিজয়ের ব্যাপারে ব্যাপক আশাবাদী। তাছাড়া এ-ই আসেন জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিকভাবে ভালো শক্তিশালী। বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে জামায়াতে ইসলামীর আন্দোলন সংগ্রাম ছিল তিব্র। যার কারনে, তাদের অনেক কর্মী নি হ ত হয়েছে আ হ ত হয়েছে, তাদের নামে শতশত রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। এ-ই কারনে এ-ই অঞ্চলের লোক জামায়াতে ইসলামীকে খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। পরিবেশ যে-ই অবস্থায় এ-ই অবস্থায় থাকলে জামায়াতের প্রার্থী ব্যাপক ভোটে জয়লাভ করবে।
জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সংগঠক মোহাম্মদ ইমরান হোসাইন এ-ই বিষয়ে জানান, এ-ই আসনে জামায়াত দল ও প্রার্থী হিসেবে শক্তিশালী ও জনপ্রিয়। বিভিন্ন জরিপেও তা-ই উঠে এসেছে। ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে জামায়াতের প্রার্থী আফজাল হোসাইন ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে জিতবে।
একই কথা বলেন মুদিখানা দোকানি আতাউর রহমান। তিনি বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ। শান্তিতে ঘুমাতে চাই, নিরাপদে বসবাস করতে চাই। এ-ই কারনে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবো।

নির্বাচনের তফসিল ১১ ই ডিসেম্বর ঘোষণা করার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তফসিল ঘোষণার সাথেসাথে নির্বাচনী মাঠ আরো গ র ম হয়ে উঠবে, নির্বাচনীর লু হাওয়া বইবে। তাই জনসাধারণ আশঙ্কায় আছে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি-না !! এ-ই আসনের মানুষ মনে করে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আফজাল হোসাইন ব্যাপক ভোট জয়লাভ করবে।

সর্বশেষ - ধর্ম

আপনার জন্য নির্বাচিত

সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে ইবিতে মানববন্ধন, শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম

নেদারল্যান্ডসে অভিবাসনবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে: ড. হেলাল উদ্দিন

বাসা থেকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় নিজের গোপন অঙ্গ কেটে ফেললেন যুবক

শ্যামনগরে কোস্টগার্ডের অভিযানে ৫০ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ

ডাকসু নির্বাচনের সাথে সেনাবাহিনীর কোন সংশ্লিষ্টতা নেই : সেনা সদরদপ্তর

জাকসুর ভোট গণনা নিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন।ভোট গোনা হবে মেশিনে নয়ম্যানুয়ালি

খুলনায় দৌলতপুরে বিএনপি নেতার বাসভবনে তিন রাউন্ড গুলি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় করা মামলাটিতে দণ্ডবিধি ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।

ভূঞাপুরে শীতের শুরুতেই ব্যস্ততা বেড়েছে লেপ-তোষক কারিগরদের