দৌলতপুরে বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে স্বচ্ছতা
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি :
স্বল্প খরচে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চালু হওয়া গ্রাম আদালত এখন দৌলতপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের জন্য নতুন ভোগান্তির নাম—এমন অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্ধারিত ফি উপেক্ষা করে ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে পরিচালিত গ্রাম আদালতে মামলা দায়ের ও হাজিরার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের বিধিমালা অনুযায়ী গ্রাম আদালতে দেওয়ানি মামলার ফি মাত্র ২০ টাকা এবং ফৌজদারি মামলার ফি ১০ টাকা নির্ধারিত। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অভিযোগ রয়েছে, সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে কয়েকশ’ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে, যা দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের একাধিক ভুক্তভোগী জানান, মামলা করতে গেলেই বিভিন্ন খাতের ব্যয়ের অজুহাতে বাড়তি টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। আল্লার দরগা বাজার এলাকার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রাম আদালতে যাতায়াত ও প্রক্রিয়ার নামে তার কাছ থেকে প্রায় এক হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। একই ইউনিয়নের বাসিন্দা মুন্না জানান, একটি সাধারণ অভিযোগ দায়ের করতেই তাকে গুনতে হয়েছে ৪০০ টাকা।
অভিযোগের বিষয়টি এতটাই গুরুতর যে নান্টু আলী নামে এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসক ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ভিডিও প্রমাণও সংযুক্ত করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।
এ বিষয়ে হোগলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবরক্ষক কাম কম্পিউটার অপারেটর আবু সুফিয়ান অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়টি আংশিকভাবে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, দায়িত্বে যোগদানের আগেও একইভাবে টাকা নেওয়া হতো এবং ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশেই তিনি তা করেছেন। তবে ৪০০ থেকে এক হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সিদ্দিকুর রহমান দাবি করেন, গ্রাম আদালতের খরচ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে তিনি অবগত নন। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। একই সুরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরীও বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না বলে দাবি করেছেন।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন,
“গ্রাম আদালতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গ্রাম আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। অন্যথায় স্বল্প খরচে ন্যায়বিচারের যে লক্ষ্য নিয়ে গ্রাম আদালত প্রতিষ্ঠিত, তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ন্যায়বিচার থেকে আরও দূরে সরে যাবে।



















