নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ও সরকার বারবার “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সেই প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র তুলে ধরছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা প্রকাশ্যে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমে কাজ করছেন। শুধু তাই নয়, দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান নিজেও সরকারি পদমর্যাদা ও প্রভাব ব্যবহার করে স্থানীয় প্রশাসনকে দলীয় প্রচারণায় যুক্ত করছেন— এমন অভিযোগও উঠেছে।
ওসি ও প্রশাসনের সম্পৃক্ততা
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি স্থানীয় থানার ওসি ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রকাশ্যে ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণা পরিচালনা করছেন। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন,
“যখন দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা নিজেই সরকারি পদ ব্যবহার করে নির্বাচনী মাঠে পক্ষপাতমূলক ভূমিকা নেন, তখন নিচের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা আশা করা অবাস্তব।”
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখন প্রশ্নবিদ্ধ
নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের দাবি করলেও মাঠে তার বাস্তবতা নেই বলে অভিযোগ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তারা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের দলীয় তৎপরতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে।
“প্রশাসন যদি দলীয় নির্দেশে চলে, তাহলে ভোটার বা বিরোধী প্রার্থী কোথায় যাবে? এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন,” — মন্তব্য এক বিশ্লেষকের।
দলীয় সরকার না ইন্টারিম সরকার?
এমন পরিস্থিতিতে জনগণ প্রশ্ন তুলছে,
“এটা কি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন, না ইন্টারিম সরকারের ছদ্মবেশে দলীয় প্রভাবের নতুন সংস্করণ?”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবিধানিক পদে থেকে কোনো ব্যক্তি দলীয় প্রচারণায় যুক্ত হলে তা সরাসরি নির্বাচনী নীতিমালা ও প্রশাসনিক নীতিশাস্ত্র লঙ্ঘন।
🔹 বিশ্লেষকদের সতর্কতা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন,
“যদি প্রশাসন ও আইনব্যবস্থা দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হয়, তাহলে নির্বাচনের আগে যত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হোক না কেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কেবল মুখের বুলি হয়ে থাকবে।”
তারা আরও বলেন, গণতন্ত্রের ভিত্তি রক্ষায় এখন সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সরকারি পদধারীদের দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত রাখা।


















