তৌহিদ হাসান জেলা প্রতিনিধি

মাটির মায়া মানুষের চিরায়ত, কিন্তু সেই মাটিই এখন অনেকের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের আগ্রাসনে সাধারণ মানুষের ভিটেমাটি হারানোর হাহাকার এখন আকাশছোঁয়া। আইনি মারপ্যাঁচ আর পেশীশক্তির সমন্বয়ে একদল অসাধু চক্র সাধারণ মানুষের শেষ সম্বলটুকু গ্রাস করে নিচ্ছে, যা বর্তমানে এক চরম সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে।
কাগজ আছে, কিন্তু মাটি নেই
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভূমিদস্যুরা কেবল গায়ের জোরে জমি দখল করছে না, বরং জালিয়াতির এক বিশাল জাল বুনেছে। ভুয়া দলিল তৈরি, পর্চা জালিয়াতি এবং মাঠ প্রশাসনের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে রাতের আঁধারে বদলে যাচ্ছে জমির মালিকানা। ভুক্তভোগীদের দাবি— হাতের কাছে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তারা নিজ জমিতে দাঁড়াতে পারছেন না। প্রতিবাদ করলেই জুটছে মিথ্যা মামলা অথবা প্রাণনাশের হুমকি।
উন্নয়নের আড়ালে উচ্ছেদ আতঙ্ক
আবাসন প্রকল্প বা শিল্পায়নের নামে অনেক সময় কৃষিজমি ও জলাশয় ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। পরিবেশ আইনকে তোয়াক্কা না করে নদী বা খালের পাড় দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশাল অট্টালিকা। এর ফলে একদিকে যেমন প্রান্তিক কৃষক তার জীবিকা হারাচ্ছে, অন্যদিকে বিঘ্নিত হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। ভুক্তভোগী এক বৃদ্ধের ভাষায়, “বাবা-দাদার কবরটাও এখন অন্যের সীমানায়, চোখের সামনে মাটি ভরাট হতে দেখছি কিন্তু কিছুই করার নেই।”
প্রশাসনের নীরবতা ও প্রতিকারের প্রত্যাশা
অসহায় মানুষগুলো যখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছে, তখন অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা লক্ষ করা যায়। আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় দস্যুরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জমি হাতবদল করে ফেলে।


















