শুক্রবার , ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলা
  7. চাকুরী
  8. জাতীয়
  9. প্রবাস
  10. বানিজ্য
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. শিক্ষা
  14. সারাদেশ
  15. সাহিত্য

নাম ও স্বকীয়তা রেখে সাত কলেজ নিয়ে গঠিত হচ্ছে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬ ৩:৩৩ অপরাহ্ণ

গার্ডিয়ান বাংলা : হাদিসুর রহমান

রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজ তাদের নিজস্ব নাম ও পরিচয় বজায় রেখেই একটি সমন্বিত একাডেমিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে। এ লক্ষ্যে প্রণীত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীর সাত কলেজকে একটি অভিন্ন একাডেমিক কাঠামোর আওতায় এনে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নই এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী “ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ” ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে পরিচালিত হবে। তবে কলেজগুলোর নিজস্ব নাম, অবকাঠামো এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।

অধ্যাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে আচার্য, উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল থাকবে। রাষ্ট্রপতি আচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেবেন। শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ওপর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন ও চারুকলাসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে পৃথক স্কুল গঠন করা হবে। এসব স্কুলের নেতৃত্বে থাকবেন ‘হেড অব স্কুল’। সংযুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন অভিন্ন সময়সূচি ও কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হবে।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু, শিক্ষক উন্নয়ন এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

অধ্যাদেশে আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী ব্যবস্থায় একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ মনে করছে, এই অধ্যাদেশ অনুমোদনের ফলে সাত কলেজের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সংকট নিরসনে কার্যকর সমাধান আসবে। একই সঙ্গে রাজধানীতে একটি আধুনিক, সমন্বিত ও গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ - ধর্ম