মিয়া সুলেমান, ইশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধি:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির নেতা লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, কোনো ঘটনার প্রকৃত কারণ যাচাই না করে সেটিকে সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক রঙে উপস্থাপন করা সমাজের জন্য মারাত্মকভাবে বিপজ্জনক। এতে সত্য আড়াল হয় এবং সামাজিক বিভাজন আরও গভীর হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজীবপুরে সংঘটিত একটি ঘটনা মূলত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটিকে “হিন্দুদের ওপর মুসলমানদের আক্রমণ” হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে জমি নিয়ে পারিবারিক বা প্রতিবেশীদের মধ্যে বিরোধ নতুন কিছু নয়। এসব ঘটনায় রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়—অপরাধ অপরাধই।
লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু আরও বলেন, মগটুলা কিংবা সোহাগির সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। এসব ঘটনা জমিজমা নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বের ফল হলেও, কিছু বাইরের উসকানিদাতা ও সুযোগসন্ধানী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে এবং সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ঝগড়াকে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধে রূপ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিরীহ মানুষকে কষ্ট দেওয়া, গুজব ছড়ানো কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে ঘটনাকে বিকৃত করা মানবিক ও নৈতিক—উভয় দিক থেকেই নিন্দনীয়। এ ধরনের অপপ্রচার সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে দেয়।
তিনি আরও জানান, যেখানে ধর্মীয় স্থাপনা বা সংখ্যালঘুদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখানে বিএনপি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সবসময় পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দাঁড়াবে। অন্যায়ের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। অপরাধীর কোনো দলীয় বা ধর্মীয় পরিচয় বিএনপির কাছে বিবেচ্য নয়—অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
ঈশ্বরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ভূমি-সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তার ভাষায়, সব দলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এমন কিছু চক্র রয়েছে, যারা মানুষের কষ্টকে পুঁজি করে অবৈধ লাভবান হয়। এসব সিন্ডিকেটের শিকড় উপড়ে ফেলা হবে এবং কাউকে চিনে ছাড় দেওয়া হবে না।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। “আমরা টাকা খাই না, খাবো না। মানুষের কষ্ট দিয়ে কেউ লাভবান হতে পারবে না—এটাই আমাদের অঙ্গীকার,”—এমন মন্তব্য করে তিনি সবাইকে গুজবে নয়, সত্যে বিশ্বাস করার আহ্বান জানান। বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে ন্যায় ও মানবতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।


















