শুক্রবার , ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলা
  7. চাকুরী
  8. জাতীয়
  9. প্রবাস
  10. বানিজ্য
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. শিক্ষা
  14. সারাদেশ
  15. সাহিত্য

গাইবান্ধায় ৫’শ কোটি টাকা মুল্যের পরিত্যক্ত জমি এসিল্যান্ডের দূর্নীতিতে পথে বসেছে মালিক

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫ ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ

গাইবান্ধায় ৫’শ কোটি টাকা মুল্যের পরিত্যক্ত জমি প্রভাবশালীর দখলে!! এসি ল্যান্ডের দুর্নীতির কারণে ১৬ বছর যাবৎ ফাইল বন্দি!!

মাহিনুর ইসলাম : গাইবান্ধা জেলা শহরের আদর্শপাড়া এলাকায় ৬০ বিঘা মালিক বিহীন সম্পত্তি এলাকার প্রভাবশালী ভুমি দস্যুরা অবৈধভাবে জবর দখল করে ভোগ করছে। যার বর্তমান মূল্য কমপক্ষে ৫’শ কোটি টাকা।

বিষয়টি ২০০৯ ইং সালে অর্থাৎ ১৬ বছর আগে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত তৎকালীন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পত্রিকা কাটিংসহ ফাইলপত্র তৎকালীন গাইবান্ধা সদরের এসি (ল্যান্ড) অফিসে আসলে সংশ্লিষ্ট অফিস তদন্তের নামে ভূমি দস্যুদের সাথে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে তৎকালীন সময়ে ফাইলপত্র গায়েব করেন।

পরে ফাইলটিতে জমে থাকা ধুলাবালি ঝেড়ে বেশ কয়েক দফা অবৈধভাবে দখলকারীদের নোটিশ প্রদান করা হলেও এসি ল্যান্ড সহ সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা রহস্যজনক কারণে তদন্ত অনুষ্ঠান বা ফাইলটি অগ্রগামী না করে পুনরায় লাল ফিতায় বন্দি করে রাখেন। এভাবে ১৬ বছর কেটে গেছে।

এই জমিগুলো এলাকার কতিপয় প্রভাবশালীর দখলে রয়েছে। এই জমিগুলো উদ্ধার করে ২ শতাংশ হারে বন্টন করে গাইবান্ধা এলাকার কমপক্ষে ১ হাজার ভূমিহীন পরিবারকে বসবাসের সুযোগ করে দেয়া যেতে পারে। তাই এলাকার সচেতন মহল প্রধান উপদেষ্টা, ভুমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত উপদেষ্টা ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক সহ ভুমি সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রকাশ, মৃত.বাসত উল্লার পুত্র সোলায়মান আলী তার পরিবার পরিজন নিয়ে ১৯৭০ সালে ভারত থেকে ছেড়ে এসে গাইবান্ধা শহরের আদর্শপাড়া (গোবিন্দপুর মৌজায়) এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। এ সময় একই এলাকার বিধু ভুষন দাস, যতিন্দ্র চন্দ্র দাসসহ ৫/৬টি পরিবার ভারতে চলে যাওয়ার আগে উল্লেখিত সোলেমান আলীর কাছে তাদের সমস্ত সম্পত্তি কবলা দলিল মুলে বিক্রি করে দেয়।

সোলেমান আলী ওই ৫/৬টি পরিবারের সমস্ত সম্পত্তি নিজের নামে ও তার ৭ পুত্র হোসেন আলী, আব্দুস ছামাদ, আব্দুর লতিফ, জয়নাল আবেদীন, ইব্রাহিম আলী, ইসমাইল হোসেন ও আবু বক্করের নামে কবলা দলিল করে নেয়। উল্লেখিত জমি গুলোর মৌজা গোবিন্দপুর, জে এল নং- ৯৯।

এদিকে ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর ৫টি দলিল সম্পন্ন হয়। যার ভলিউম বা বালাম নং- ১০৫ এ সংরক্ষিত দলিল নং ১১৪৭০, জমির পরিমান ১.৭২ শতাংশ এবং জমি দাতার নাম বিধু ভুষন দাস, পিতা মৃত, ব্রজকান্ত দাস, ১১৪৭১ নং দলিলের জমির পরিমান ১.৭২ শতাংশ এবং জমি দাতার নাম হেমন্ত চন্দ্র দাস পিতা মৃত, গৌরি কান্ত দাস, বালাম নং ১১১ এ সংরক্ষিত দলিল নং ১১৪৭২ এ জমির পরিমান ১.৭২ শতাংশ এবং জমি দাতার নাম নগেন্দ্রনাথ দাস পিতা মৃত. গৌরি কান্ত দাস, দলিল নং ১১৪৭৩ এর জমির পরিমান ১.৭২ শতাংশ এবং জমি দাতার নাম যতীন্দ্রনাথ দাস পিতা গৌরি কান্ত দাস, দলিল নং ১১৪৭৪ এর জমির পরিমান ১.৭৩ শতাংশ জমি দাতার নাম সুধীর চন্দ্র দাস পিতা মৃত গৌরি কান্ত দাস।

গত ৭/১/১৯৭১ ইং তারিখে ৪টি দলিল সম্পন্ন হয়েছে, যার বালাম নং ১২ এ সংরক্ষিত দলিল নং ২৭৬ এর জমির পরিমান ৭৪ শতাংশ এবং জমি দাতার নাম ব্রজবালা জং রামচন্দ্র দাস, বালাম নং ০৭ এ সংরক্ষিত দলিল নং ২৭৭ এর জমির পরিমান ১.১৮ শতাংশ এবং জমি দাতার নাম কৃষ্ণমনি জং প্রানকৃষ্ণ বর্মন, দলিল নং ২৭৮ এর জমির পরিমান .০৮ শতাংশ এবং জমি দাতার নাম সতিস চন্দ্র পিতা অদ্যনাথ দাস, ৩২৬ নং দলিলে জমির পরিমান ২.০৪ শতাংশ এবং জমি দাতার নাম মরকাটু বর্মন পিতা ঈশ্বর চন্দ্র বর্মন, ১৪/০১/১৯৭১ ইং তারিখে সম্পাদনকৃত দলিলের বালাম নং ১১ এ সংরক্ষিত দলিল নং ৩২৫ এর জমির পরিমান ২.০৪ শতাংশ এবং জমি দাতার নাম কেরুরাম বর্মন গং পিতা ঈশ্বর চন্দ্র বর্মন, ৩২৪ নং -দলিলে জমির পরিমান ২.৫২ শতাংশ এবং জমি দাতার নাম বাবুরাম বর্মন পিতা প্রাননাথ বর্মন, ৭/১/১৯৭১ ইং তারিখে সম্পাদনকৃত দলিলের বালাম ১২ এ সংরক্ষিত দলিল নং ২৭৫ এর জমির পরিমান ২.২৩ শতাংশ এবং জমি দাতার নাম মন মহিনী দাস জং মহেন্দ্রনাথ দাস ও জমি গ্রহিতা সোলমান আলী সরকার।

নির্ভরশীল সূত্র জানায়, ১৯৭১ ইং সালে মুক্তিযুদ্ধে দেশ স্বাধীন হলে ভারতে চলে যাওয়া উল্লেখিত ৫/৬টি পরিবারের লোকজন দেশে ফিরে এসে সোলেমান আলী ও তার পরিবারের ওপর অন্যায় অত্যাচারসহ জমিগুলো জোরপূর্বক দখল করে নেয়।

ফলে সোলেমান আলী ও তার পুত্রদের নামে ক্রয় করা জমিগুলো বিক্রি না করেই বা দলিল মুলে ফেরত না দিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে পুনরায় তারা ভারতে চলে যায়। ওই সময় এলাকার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিও জোরপূর্বক কিছু জমি জবর দখল করে নেয়। হিন্দু পরিবারের দখলকৃত জমিগুলো তারা পুনরায় দো-বেচা দেয়। অনেকেই জাল দলিল সৃজন করে। এভাবেই দীর্ঘদিন থেকে জমিগুলো হাত বদল হচ্ছে।

বিষয়টি ২০০৯ ইং সালের জানুয়ারী মাসে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তৎকালীন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। জেলা প্রশাসন অফিস থেকে পেপার কাটিংসহ বিভিন্ন ফাইলপত্র তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট দাখিল করার জন্য গাইবান্ধা সদরের এসি (ল্যান্ড) অফিসে প্রেরণ করেন।

তৎকালীন এসি (ল্যান্ড) ছিলেন লুবনা সিদ্দিকী। এ সময় তার নির্দেশে তৎকালীন কানুনগো গোলাম হাবিবের নেতৃত্বে সার্ভেয়ার আঃ আউয়াল, তৎকালীন থানসিংহপুর ভূমি অফিসের তহশীলদার মাহমুদুল হাসান, এমএলএসএস আঃ সোবহানসহ ৪ সদস্যের তদন্ত দল স্থানীয় অসংখ্য গন্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে সরেজমিনে তদন্ত করেন।

পরে দলিলপত্র গুলো সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিষ্টারের অফিসের রেকর্ড রুম থেকে যাচাই বাছাই করে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পত্র সংগ্রহ করেন। কিন্তু গাইবান্ধা সদরের এসি (ল্যান্ড) অফিসের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ভূমি দস্যুদের সাথে গোপনে আতাঁত করে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে জেলা প্রশাসন অফিসে রিপোর্ট প্রেরণ না করে ফাইলটি অফিসের লাল ফিতায় বন্দি করে রাখেন।

এদিকে এলাকার সচেতন মহল ওই সময় বেশ কয়েকদফা বিষয়টির অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করে রিপোর্ট সম্পর্কে কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারেনি। এমনকি ওই সময় উল্লেখিত তদন্তের ফাইলটিও খুজেঁ পাওয়া যায়নি বলে নির্ভরশীল সুত্র জানায়।

এ বিষয়ে গত ১৬ বছরে অসংখ্য বার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশসহ বিভিন্ন ভাবে তাগিদ দিলেও তাগিদ কালীন সময়ে এসি ল্যান্ডসহ সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা রহস্যজনক কারণে কোন কর্ণপাত করেনি।

তাই এলাকার সচেতন মহল সরকারী অফিস থেকে মাঝে মাঝে ফাইল গায়েব হয়ে যাওয়ার মূল রহস্য ও ১৬ বছরেও রিপোর্ট দাখিল না করার মুল রহস্য খুজেঁ বের করাসহ – সরকারী স্বার্থ জড়িত আদর্শপাড়ার ওই হলদিয়ার বিল নামক স্থানের ৫’শ কোটি টাকা মুল্যের ৬০ বিঘা মালিক বিহীন পরিত্যক্ত জমি উদ্ধার করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা, ভুমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত উপদেষ্টা ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক সহ ভুমি সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বশেষ - ধর্ম

আপনার জন্য নির্বাচিত

টঙ্গীতে কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডে চার জনকে আসামি করে মামলা

ইউরোপে এক বছরে গরমে ৬২ হাজার মানুষের মৃত্যু

আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এর সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের মান্যবর রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ট্রাকভর্তি ৩৯০ বস্তা অবৈধ সার জব্দ

চট্টগ্রাম বোর্ড থেকে উধাও লাখ লাখ খাতা, অপব্যবহারের শঙ্কা

জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন দিতে হবে এবং ৫ দফা দাবী মানতে হবে

চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় যাচ্ছেন ১০ হাজার বিএনপি নেতাকর্মী

চুয়াডাঙ্গায় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ কার্যক্রম সঠিক ও নির্ভুলভাবে করার জন্য রিক্রুটমেন্ট ডিউটিতে নিয়োজিত অফিসার ফোর্সদের ব্রিফিং অনুষ্ঠিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের নতুন সভাপতি অধ্যাপক ড. শিপন মিয়া

সেই হিন্দু ২ বোনের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সত্যতা পেল পুলিশ সদর দপ্তর